দীর্ঘ জীবনের রহস্য কি ?

 আমরা সবাই দীর্ঘ জীবন লাভ করতে চাই। কিন্তু কিছু অতি জরুরী বিষয় না জানার কারনে অনেকেই দীর্ঘ জীবন লাভে ব্যর্থ হচ্ছেন। শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, জীবনধারন প্রণালীও অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী।

দীর্ঘ জীবনের রহস্য কি ?


প্রাকৃতিক নিয়মঃ

মহাজ্ঞানী সর্বশক্তিমান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ সৃস্টি আমরা মানুষ। মানব সৃস্টির পূর্বেই মানুষ কিভাবে পৃথিবীতে বসবাস করবে তার উপায় উপকরন তিনি সৃস্টি করেছেন।তিনি প্রকৃতিকে নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন।


যেমন : দুধ খেলে মানুষ বাঁচবে আর বিষ খেলে মারা যাবে, এটি প্রকৃতির অতি সাধারন একটি নিয়ম।


জীবন চক্রঃ


আমরা প্রকৃতিজগতে জীবন চক্র দেখতে পাই। বীজ অঙ্কূরিত হয়ে চারাগাছ একসময় মহীরুহ আকৃতি ধারন করে। একসময় এই প্রকাণ্ড বৃক্ষটি জরাজীর্ন হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটাই আমরা প্রকৃতি জগতে দেখতে পাই, জীবনচক্র শেষ না করে কোন প্রাণী বা উদ্ভিদই শেষ হয়ে যায় না। 

জীবনাচারঃ

আমরা অতীত কালের মানুষদেরকেও দেখি তারা প্রকৃতির নিয়মের মধ্যেই ছিলেন।
পশুপাখি যেমন রাত্রি শেষ হওয়ার সাথে সাথে জেগে উঠে, তারাও ভোরে জেগে উঠতেন। আর ঘুমাতে যেতেন এশা নামায পড়েই। ফলে তারা ছিলেন দীর্ঘজিবী। 


খাদ্যাভ্যাসঃ

আসলে বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায়, শতায়ু মানুষগুলোর কেক , চানাচুর , বিস্কুট , বর্গার , শর্মা, কবাব , নান, পিজা এতসব বাহারী খাবার খাওয়ার সামর্থ্য ছিল না।


প্রকৃতির লতাপাতা শ্ক-সব্জি খেয়েই তারা বেঁচে ছিলেন। অর্থাভাবে স্বল্প সরিষার তৈল দিয়ে কোনরকম রান্না সারতেন। তাদের খাবারে ক্যামিক্যালের নাম গন্ধও ছিল না। ফলে তাদের দেহকোষ গুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে যেত। 


বাস্তব উদাহরনঃ


লি চিং ইউয়ান এক চায়নিজ ভদ্রলোক ২৫৬ বছর বেঁচে থেকে ইতিহাস তৈরী করেছেন।

অনলাইন থেকে যতদূর জানা যায়, দীর্ঘ ৪০ বছর তিনি দূর্গম পাহারে কাটিয়েছেন পাহাড়ের জড়িবুটি ও ফলমূল খেয়ে। ফলে তার দেহকোষ এতই শক্তিশালী হয়েছিল যে, সারা জীবনে ২৩টি বিবাহ করেছিলেন এবং তিনি ২০০ সন্তানের জনক ছিলেন।


অন্যদিকে আমাদের সমাজে আমরা কি দেখতে পাই ? বিশ বছরের যুবক ছেলের ডায়বেটিস। তিরিশোর্ধ সকল মানুষ হার্ট, লিভার , কিডনিসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত। পঞ্চাশ-ষাট বছরেই অহরহ মানুষ স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে।


অকাল মৃত্যুর কারণঃ


প্রকৃতির খাবারকে যখন উচ্চ তাপমাত্রায় প্রকৃয়জাত করা হয় , তখন দেহকোষের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়। 

এই পুষ্টিবিহীন খাবার দীর্ঘয়োদে খাওয়ার ফলে দেহকোষগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
মহাবিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখনি যখন আমাদের হার্ট, লিভার , কিডনি ইত্যাদি ভাইটাল অর্গানগুলির কোষ নিস্তেজ হয়ে পড়ে । যেকোন অর্গান এমতাবস্থায় উপনীত হলেই মানুষ হাসপাতালে শয্যশায়ী  হয়ে পড়ে। 

পুষ্টিহীন দেহকে তখন আর ড্রাগ দিয়েও বাঁচিয়ে রাখা যায় না।

Post a Comment

0 Comments