হীনমন্যতা থেকে কিভাবে মুক্তি লাভ করা যায়।



হীনমন্যতা ( Inferiority complex ) একটি মানসিক সমষ্যা। শিশু যখন বড় হতে থাকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সে তার চারপাশ থেকেও জ্ঞান অর্জন করে।কেউ একজন বলে বসল , তুই এত বোকা ? তোর মাথায় ত গোবর। এরকম ছোট ছোট হাজারো প্রচলিত কথা রয়েছে, হীনমন্যতা তৈরির জন্য এর দুই/একটাই যথেষ্ট। একবার যদি এই ব্যাধি কাউকে পেয়ে বসে, ভবিষ্যৎ জীবনে সে আর সফলতার মুখ দেখতে পারে না।

তার মাথায় তখন কাজ করতে থাকে, সে খারাপ, দেখতে সুন্দর না, তাকে কেউ পাত্তা দেয়না ইত্যাদি হাজারো নেতিবাচক বিষয় নিয়ে মগ্ন থাকে। এমনকি প্রাপ্ত বয়স্করাও এটা থেকে রেহাই পায় না। 

ধরুন এক ভদ্রলোক তাঁর দুই ছেলে ও একটি গাধা নিয়ে বাজারে যাচ্ছিল-দুই ছেলে গাধার পিঠে আর লোকটি গাধার রসি ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। লোকজন বলে উঠল, ছেলেগুলি কত বেয়াদব, তারা আরাম করছে আর বাবাকে কষ্ট দিচ্ছে। লোকটি এবার গাধার পিঠে আর ছেলেগুলি রসি ধরে হেঁটে যাচ্ছিল। এবার লোকেরা বলে উঠল, কি নির্দয় বাবা, নিজে আরাম করছে আর ছেলেগুলিকে হাটাচ্ছে। এবার তিন জনই গাধার পিঠে চড়ে যচ্ছিল।  আর লেকেরা তখন বলতেছিল, এরা কত নির্দয় দেখ, তিনটা লোক গাধাটির পিঠে চড়ে যাচ্ছে। অগত্যা কি আর করা, তিনজনই নেমে গাধার রসি ধরে হাঁটতেছিল। এবার লোকেরা অট্টহাসি দিয়ে বলল, কি বোকা লোক দেখরে, গাধা থাকতে এরা হেঁটে যাচ্ছে।

শিক্ষা : জীবনে সফলতার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষ কি বলে তাতে কিছু আসে যায়না। প্রত্যেকটা মানুষ আল্লাহতালার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। প্রত্যেকের আছে কিছু দুর্বলতা , পাশপাশি রয়েছে তার কিছু বিশেষ সামর্থ্য। কারো কথায় কান না দিয়ে যার যে সামর্থ্যটুকু আছে সেটাকেই কাজে লাগিয়ে ফেলতে হবে।

নিচ ভুজিসিক যার হাত পা কিছুই নাই, সে হল আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বক্তা। বখতিয়ার খলজি ছিলেন কাল এবং খাট । এই দুর্বলতা তাকে বাংলা বিজয় থেকে বিরত রাখতে পারে নাই।

অতএব হীনমন্যতাকে আজই ছুড়ে ফেলে দিন। কেউ যদি বাজে বকে, তার কথাকে উড়িয়ে দিন। আপনি যদি আপনার ক্ষুদ্র সম্ভাবনা নিয়েও নিরবে কাজ চালিয়ে যান, একদিন সেই লোকেরাই বলবে, জানতাম তুমি সফল হবে। এটা জেনেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে যে, সাধারন মানুষ আপনাকে যা বলে, চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই বলে। আসলে মানুষ এরকমই।

Post a Comment

0 Comments