ফুসফুস ভালো ও সুস্থ্য রাখার উপায় কী?

ফুসফুস হচ্ছে মেরুদণ্ডী প্রাণীর একটি বিশেষ অঙ্গ যা শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যবহৃত হয়, এই শ্বাসযন্ত্রটির প্রধান কাজ হলো বাতাস থেকে অক্সিজেনকে রক্তপ্রবাহে নেওয়া এবং রক্তপ্রবাহ হতে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বাতাসে নিষ্কাশন করা।


বিশেষজ্ঞদের মতে যারা ধুমপান করেন তাদের ফুসফুসে বেশি সমস্যা হয় তবে পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কখনোই ধূমপান করেন না কিন্তু তারপরেও তাদের ফুসফুসে সমস্যা থাকে। আবার অন্য দিকে যারা প্রায় ৪০ বছর ধরে ধূমপান করছেন তাদের ফুসফুসে কোন ধরণের সমস্যাই নেই। এই বিষয়টি প্রতিটি মানুষের শারীরিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। তাই আপনি ধূমপান করুন আর নাই করুন, আপনার ফুসফুসে সমস্যা হতেই পারে। আপনার ফুসফুস যদি সুস্থ্য না থাকে তাহলে আপনার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম, তাই আপনার আমার সবার উচিৎ নিজের ফুসফুস কে সুস্থ্য রাখা, ধূমপান না করা, ব্যায়াম করা, বায়ুদূষণ এড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি ফসুফুসকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। তবে এর পাশাপাশি কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাদ্য তালিকায় থাকলে ফুসফুস ভালো থাকে।


কফি পান করা


বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয় এর মধ্যে অন্যতম একটি পানীয় হচ্ছে কফি, এই কফি চেরি নামক এক ধরনের ফলের বীজ থেকে তৈরি সবুজ কফি বিশ্বের সব থেকে বেশি বিক্রীত কৃষিপণ্যের মধ্যে একটি। কতটুকু পরিমাণ কফি পান শরীরের জন্য ভালো এ নিয়ে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি তবে কফিতে প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে যা মানুষের উপর উত্তেজক প্রভাব ফেলে ও উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং কফি পানে ফুসফুস ভালো রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি। কফি পানের চার ঘণ্টা পর শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্রম আরো ভালো হয়। তাই ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে এই কফি পান করতে পারেন।


কাঁচা রসুন খাওয়া


রসুন হল পিঁয়াজ জাতীয় একটি ঝাঁঝালো সবজি যা রান্নার মশলা বা ভেষজ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি উপাদান। রসুনের অনেক গুলো সাস্থ্য উপকারিতার আছে কৃমি নাশক, শ্বাস কষ্ট, হজমে সহায়তা, শ্বাসনালীর মিউকাস, শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল কমানো সহ দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ভাইরাস জনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আপনি যদি প্রতি সপ্তাহে একদিন নিয়ম করে ৬ মাস কাঁচা রসুন খেতে পারেন তাহলে আপনার ফুসফুস সুস্থ্য থাকার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে কয়েক গুন।


অ্যাভোকাডো ফল


অ্যাভোকাডো হচ্ছে মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার স্থানীয় একটি ফল, ফলটির খোসা কুমিরের গায়ের মত অমসৃণ হওয়ায় এটা কুমির নাশপাতি হিসেবেও পরিচিত। যদিও বাংলাদেশ এই ফল টা সচরাচর পাওয়া যায়না তবে অ্যাভোক্যাডো থেকে পাওয়া ক্যালরির প্রায় ৮০% ভাগই আসে চর্বি থেকে আপাতঃদৃষ্টিতে অ্যাভোকাডো চর্বি সমৃদ্ধ খাবার বলে মনে হলেও এই চর্বি আমাদের শরীরের জন্য হিতকর। অ্যাভোকাডোর এই অসাধারণ চর্বি তিন প্রকারের অলেইক এসিড পলিহাইড্র ও ক্সিল্যাটেড এবং ফাইটোস্টেরল এছাড়াও অ্যাভোকাডোর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এর নাম গ্লুট্যাথাইওয়ান। যা ফুসফুসের জন্য অনেক কার্যকরী।

এছাড়াও আপনি যদি নিয়মিত আপেল, গাজর, আঙুর, আনারস, লেবুর রস, খান তাহলে আপনার ফুসফুস অনেক ভালো ও সুস্থ্য থাকবে।

Post a Comment

1 Comments

  1. পোস্টটি পড়ে একদম যুগোপযোগী মনে হয়েছে। ধন্যবাদ

    ReplyDelete