আয়োডিনের অভাবজনিত রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা।

আমাদের গলার সম্মুখভাগের একটি গ্রন্থি হল থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গ্রন্থির কাজ হল থাইরক্সিন হরমোন তৈরি করা। এই থাইরক্সিন হরমোন তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় আয়োডিন। যখন মানবদেহে এই হরমোন যথেষ্ট তৈরি করতে পারে না, আর তখনই মানুষ আয়োডিনের অভাবজনিত নানা রোগে ভোগে।

আয়োডিনের অভাবজনিত রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা।



আয়োডিনের অভাবে যে সকল অসুখ হয় তাদের আয়োডিনের অভাবজনিত বিকল বা Iodine deficiency disorder (IDD) বলে।

আয়োডিনের অভাবজনিত কারেনে যে সমস্থ রোগ-ব্যাধি হয়ে থাকে, সেগুলি হচ্ছেঃ 


১. গলগন্ড : 


আয়োডিনের অভাবজনিত একটি রোগ হলো গলগন্ড।  গলগন্ড হলে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়। ১৫ গ্রাম ওজনের থাইরয়েড গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি পেয়ে ২০০-৫০০ গ্রাম হয়ে যোয়।


২.হাইপোথাইরয়েডিজম: 


এই রোগে সাধারণত শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। এই রোগে থাইরয়েড গ্রন্থির কর্ম-ক্ষমতা  হ্রাস পায়। এই রোগের লক্ষণ হল :


(ক) বুদ্ধি লোপ পায়: 


এই রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের বুদ্ধি লোপ পায়। ফলে সাধারনভাবেই এরা মানসিক প্রতিবন্ধিতে পরিণত হয়।


(খ) বিপাকে অনিয়ন্ত্রন: 

দেহের বিপাকে নিয়ন্ত্রন থাকে না। শিশু অলস হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দেয় এবং নানা রকম রোগে ভোগে।


(গ) বৃদ্ধি থেমে যায়: 


যখন দেহে প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করতে পারে না তখন স্বাভাবিকভাবেই চামড়া কুচকে যায় এবং দেহের স্বাভাবিক কার্য পরিচালনায় বাধা হয়। ফলে দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়। শিশুর দেহ খর্বকায় হয়ে যায়।এছাড়াও ভ্রুণকালে বিভিন্ন সমস্যা হয়।যেমন: মৃত শিশু,গর্ভপাত,জন্মগত ত্রুটি,মানসিক প্রতিবন্ধকতা প্রভৃতি।


প্রতিকার:

সামুদ্রিক মাছ ও ‍উদ্ভিদের  মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমানে আয়োডিন রয়েছে।অতএব, দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এই জাতীয় খাদ্যের পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায় গলগন্ড ধরা পড়লে পটাশিয়াম আয়োডাইডের বড়ি (৬০ মি.গ্রা.) প্রতিদিন গ্রহন করে কমানো যায়।গলা টানটান করে ঢোক গিললে,যদি ছোট দলা গলা বেয়ে নেমে যায় তাহলে বুঝতে হবে গলগন্ডের সূচনা প্রাথমিক পর্যায় আছে।

এই সময় ঠিকমত চিকিৎসা করা হলে গলগন্ড বাড়তে পারে না এবং অনেক সময় মিলিয়ে যায়। এছাড়া আয়োডিন মিশ্রিত লবণ খেলে আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করা যায়।


Post a Comment

0 Comments